"----কি করবি কর্!! আমার দুর্বল জায়গাটা আমি তালুকদারে'র ডোবায় ধুয়ে এলাম। রক্ত সমেত। এসব নিয়ে চিন্তা নেই। ও তো আবার কয়েকদিনেই যেমন কে তেমন। তোর খুশফহমী'র বুকে এবার ছুরিকাঘাতের ব্যবস্থা করব। খাওয়া হারামী সতের দিনের বাচ্চাকে দুধ!! দিক ভগবান তোকে সেই ক্ষমতা! তোর লোমশ পুরুষস্তন জুড়ে নামুক অমৃতের ঢল!! বংশের নাম রাখবে যে, তাকে পালতে পারার যোগ্যতা তোর নেই। তাহলে আবার 'আমার- আমার' কিসের? আরে! এ জ্বালা নাকি তোর মাও সয়েছে, দেখলি না? তোর সামনেই তো বলল! তাহলে কি ধরে নেব, পুরুষের বীর্যে নষ্ট আপোষহীন অবিবেকী চরিত্র লুকানো থাকে? যেমন তোর মধ্যেও বর্তমান? নাকি শুধু এখানেই এটা? এই পরিবারে? আসলে, এই একটাই হাতিয়ার তোদের কাছে আছে, ব্যথা দেওয়ার ক্ষমতা। জান্তব জিঘাংসা নিয়ে নখ দন্ত সহযোগে পেটিকোটের উপরই তোরা বীরত্ব ফলিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানিত করবি। সহ্যের শক্তি তোর চাইতে আমার কম নাকি? এবার শালা, ঠিকই করে নিয়েছি, তোর এ বেলেল্লেপনা মানবো না। যখন পুনর্মুশিকো ভবঃ আমার বরদান- তখন ঘেয়ো কুকুরের মতো পেছন পেছন তুই ঘুরবি! আর সতীত্ব?? ওসব ছেদো কথা রাখ! ওটা আজকাল ভোঁতা হাতিয়ার, আসল হল - 'দম'- মর্দানগী, যেটা তোর থেকে বেশীই আছে আমার। ঢ্যামনা! যখন গরম কড়াই খালি হাতে নামাই, গরম ফ্যান পায়ে পড়লে উফ্ করি না, ফিরতি ধোঁয়ায় দম বন্ধ হতে থাকলেও উনুনে ফুঁ মেরে খ্যাটনের জোগাড় করি, সারারাত জেগে বাচ্চা হাগিয়ে সকালে ডোবায় সেই গুয়ের কাঁথা ধুয়ে আনি এই কঠিন শীতে, তখন মনে হয়, যদি তোকে ঐ বুড়িটা দশ মাস দশ দিন পেটেই না রাখতো, তবে তোর এত চাবোর চোবোর ফুটানির কি হত!! সত্যিটা নিতে পারবি না, নেওয়ার মতো সৎ সাহস নেই। আমাদের রক্ত-রসেই তোদের পুষ্টি, তবু শালা বে-বোধ বলিস, বুদ্ধু বানাস। কয়েকটা বিশেষ দিন দিয়ে কৃতার্থ করার চেষ্টা-- এ শালা তোর নষ্টা রাজনীতি। নিলাম না। আজ থেকে তুই 'দ' হবি, হাঁটু ভেঙে বসবি, নতজানু যাকে বলে- আমি আত্মতুষ্ট হব, দেখব- তুই সৎ-এর পরীক্ষা দিচ্ছিস-- প্রতি ক্ষণ, প্রত্যেক মূহুর্তে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দেখব- ""ঊরু ভাঙি কুরুরাজ পড়িলা ভূতলে'''''...... "
"----আর হ্যাঁ, পেটে ধরব। তবে তোর যোগ্যতা প্রমানিত হওয়ার পর। সম্ভোগ করব - নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য। অদেখা লুক্কায়িত মমতা, প্রেম স্বেচ্ছায় বের করব নিক্তি মেপে, তুই জানিস, মানিস না। এবার মানাবো তোকে। পুড়িয়ে মারবি? এবার সহমরনের পালা তোর- তোর- তোর....."
স্ক্রীপ্ট থেকে মুখ তুলে দেখি মেঘা উৎকন্ঠিত তাকিয়ে আছে। বেশ টান টান সাহসী কলম। প্রভা প্রকাশনী'র উপযুক্তই। ম্যাদামারা প্রেম এখানে'র ট্র্যাডিশন ছিল না কোনদিনই। এবার লেখক নাড়াচাড়া'র পালা।
'--- মন্দ নয়! কতদিন লিখছেন?
'-- প্রায় আট বছর। আসলে, লিখলেই তো হয় না! ছাপানো'র জন্য ট্যাঁকের জোরও দরকার। সেটিই জোগাড় করে ওঠা যায় নি। তাই....'
'--- এখানেও অর্ধেকটা আপনাকেই বেয়ার করতে হবে, তা জানেন তো!'
'--- সে ভরসাতেই এসেছি। যদি অর্ধেকটা দিয়েও এটার একটা হিল্লে হয়!' ম্যানুস্ক্রীপ্টটা নিজের দিকে টেনে নিলেন লেখক মহোদয়। একটু সামনে ঝুঁকে শঙ্কিত প্রশ্ন-
'-- তা, কতো পরবে, অর্ধেকে?'
চকিতে চশমা'র ফাঁক দিয়ে মেঘা'কে দেখলাম। সারা চোখ মুখে দুষ্টুমি খেলছে অথচ কতো ভান ঔদাসীন্যের!!
'-- কেন? ম্যামে'র সাথে কথা হয় নি?'
'-- হ্যাঁ, হয়েছে। উনি তো বত্রিশের নিচে হবে না পরিস্কার বললেন। কতো কাজ করতে হবে এটায়, সেটাও শোনালেন। আমার কাছে তো অতো নেই! আমি আঠাশ অব্দি দিতে পারবো। নিয়েই এসেছি, বললে- এখনই দিয়ে যাই।'
হিসেবটা তো ম্যানুস্ক্রীপ্টের সাথেই মাথায় বসে গেছিল। সওদা মন্দ নয়। তবে বাকিটাও গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। বই কাটবে, সন্দেহ নেই। আগাম বাজারটা সেটিং করে রাখা দরকার। নিজেকে পুশ ব্যাকে হেলিয়ে পেশাদারিত্ব আনলাম--
'--- দিয়ে যান ওনার কাছে, টাকা, স্ক্রীপ্ট, দুটোই, ও রসিদ দিয়ে দেবে। বই বিক্রী'র পর অর্ধেক টাকা যতদিন আমরা সম্পূর্ণ না পাচ্ছি, ততদিন আপনি কোন টাকাই পাচ্ছেন না, এটা আগাম জানিয়ে রাখলাম, দরকার হলে বলুন, কাগজ তৈরি করে নেওয়া যাক।
'-- না, তার দরকার হবে না। আসলে মেয়েটা আমায় বড্ডো ভালোবাসতো। দৈব দুর্বিপাকে বিয়েটা অন্য জায়গায় হ'ল, অকালে চলেও গে'ল, ওরই কাহিনী এটা। তাই পাঠকে'রা পড়লেই হবে। আমার আর বিশেষ কিছু চাওয়ার নেই। আচ্ছা, আসি, নমস্কার।'
'-- নমস্কার।'
মেঘা দ্যুতি ছড়িয়ে পার্টিকে নিয়ে বেড়িয়ে গেল। ব্যর্থ প্রেমিকের বলিষ্ঠ রচনা, মাছের তেলেই মাছটা ভেজে ফেলা গেল। পঁচিশ খরচ, আঠাশ এখনই প্রাপ্তি। বই বেচা এখনো বাকি, নট ব্যাড!! নারীবাদী প্রকাশনা'র দুর্নামটা কখনো কখনো পেটটা একটু বেশীই ভরিয়ে দেয়। ফিল্টার উইলসের প্যাকেট'টার দিকে আমার হাতটা অনায়াসেই চলে গেল।
*****
No comments:
Post a Comment